তিন ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আরো ৪৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন

দেশের কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের আরো ৪৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন।

ফাউন্ডেশনের রিভলভিং তহবিলের আওতায় ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির মাধ্যমে এ ঋণ বিতরণ করা হবে। এ লক্ষ্যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে তিন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সভাপতিত্ব করেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান।

এসএমই ফাউন্ডেশন গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, অর্থ বিভাগের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এ ঋণের সুদের হার হবে ৮ শতাংশ। এছাড়া বিদেশফেরত অভিবাসীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহায়তায় কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হবে। একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। তবে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের উদ্যোক্তারা ৯ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘রেমিট্যান্সকে উদ্যোক্তায়, উদ্যোক্তাকে বিনিয়োগে এবং বিনিয়োগকে কর্মসংস্থানে রূপান্তরের একটি টেকসই ভিত্তি নির্মাণে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ এ সময় তিনি দেশের নারী, যুব, প্রত্যাগত অভিবাসী এবং প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো জামানত নেয়া হবে না। ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে চার বছর এবং গ্রাহক-ব্যাংক সম্পর্কের ভিত্তিতে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৪৮টি মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। মোট তহবিলের অন্তত ২৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা, ২০ শতাংশ এসএমই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তা এবং ৩০ শতাংশ ১০ লাখ টাকা বা তার কম ঋণ হিসেবে বিতরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ৬০ শতাংশ তহবিল উৎপাদন খাতে বরাদ্দ থাকবে।

রফতানিমুখী ও আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনকারী উদ্যোক্তা, আইসিটি ও প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন উদ্যোক্তা, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের উদ্যোক্তা, তৃতীয় লিঙ্গের উদ্যোক্তা এবং বিদেশফেরত অভিবাসীরা এ ঋণ সুবিধার আওতায় আসবেন।

এসএমই ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৩ হাজার সিএমএসএমই উদ্যোক্তার মধ্যে ১ হাজার ২৫০ কোটির বেশি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৯ শতাংশই সিএমএসএমই খাতভুক্ত এবং শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এ খাতে সৃষ্টি হয়েছে।

আরও